বাংলাদেশ | পতাকা | বাংলা | মাদারিপুর | janda লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ | পতাকা | বাংলা | মাদারিপুর | janda লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৫

সম্পর্কের যে মুহূর্তগুলো কখনোই ভোলার নয়

সম্পর্কের যে মুহূর্তগুলো কখনোই ভোলার নয়

সম্পর্কের নানা স্তরে অসংখ্য মুহূর্ত চিরকাল স্মৃতি হয়ে থাকে। আবার একসঙ্গে এমন কিছু সময় যায় কেটে যায়, যেগুলো ভোলা সম্ভব নয়। একেক মানুষের জীবনে বিশেষ কিছু ঘটনা সব সময়ই আবেদন রাখে। বিয়ের আগে প্রেম বা দাম্পত্য জীবন- সম্পর্ক যাই হোক না কেন, কিছু সময় বা মুহূর্ত কখনোই ম্লান হয় না। এগুলো সবার ক্ষেত্রে চিরস্মরণীয় এবং প্রচণ্ড আবেগময় স্মৃতি হিসেবে বিবেচিত হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। জেনে নিন এমনই কিছু মুহূর্তের কথা। 

১. প্রথম প্রেমে প্রথম ডেটিংয়ের কথা কেউ কোনদিন ভুলতে পারেন না বলে জানান সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। প্রথম ডেটিংয়ে একজন মানুষ যে পরিমাণ উত্তেজনা ও মানসিক অবস্থা সামাল দেন, তা চাইলেও ভোলা যায় না।

২. ভালোবাসার কথার আদান-প্রদান চলে কিছু দিন। এ সময়টা টপকে পরের স্তরে প্রবেশ করতে চায় মন। প্রেমিক-প্রেমিকা জুটির প্রথম চুমো এমনই এক ঘটনা যা চিরকাল স্মৃতিময় হয়ে থাকে।

৩. বিয়ের পর স্ত্রীকে ছেড়ে প্রথম যে রাতটি একা কাটানো হয়, তার কথা ভুলতে পারেন না পুরুষরা। একই অবস্থা স্ত্রীর জন্যেও প্রযোজ্য। পাশে স্বামী না থাকা প্রথম রাতটা মেয়েদেরও স্মৃতি হয়ে থাকে।

৪. এমন সময় যায় যখন দুজনই বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু সেক্স বা অন্য কিছুই ঘটছে না। শুধুই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুজন দুজনের পাশে অবস্থান করছেন। প্রিয়জন পাশে না থাকলে এ সময়গুলো দারুণভাবে নাড়া দেয়।  

৫. হয়তো লুকিয়ে প্রেম করছেন। একদিন প্রেমিক বা প্রেমিকার বাড়িতে গেলেন। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার দেখে আপনি উপলব্ধি করলেন, এরা সবাই আপনাকে আপন করে নেবে। এই উপলব্ধি সত্যিই ভোলার নয়।

৬. প্রথমবারের মতো প্রিয়জনকে ছেড়ে বেশ কিছু দিন দূরে থাকলে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। যে দিনটিতে প্রিয়জন ফিরে আসেন, তখনই বিশেষ এক অনুভূতি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। হয়তো তার অপেক্ষায় এয়ারপোর্ট বা অন্য কোথাও বসে আছেন এবং এক সময় তিনি আপনার চোখের সামনে উদয় হলেন। সেই সময়কার অনুভূতিকে চিরস্মরণীয় বলে মত দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

৭. প্রচণ্ড ঝগড়ার পরও এক স্বর্গীয় অনুভূতি দুজনের মনেই ছেয়ে যেতে পারে। দুর্যোগ কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসার পর যখন দুজনই মনে মনে অনুভব করেন যে, কখনোই তার থেকে দূরে যেতে চান না, তখনই ভর করে এমন অনুভূতি।

৮. দুজন দুজনকে পছন্দ করেন। কিন্তু মনের কথাটা কোনভাবেই সরাসরি বলতে পারছেন না। হঠাৎ মুখ ফসকে একজন বলেই ফেললেন, তোমাকে ভালোবাসি। এটা যাকে উদ্দেশ করে বলা হলো, তার মনে এই স্মৃতি চিরস্থায়ী হয়ে গেলো। আর সেই মুহূর্তে অপরের মুখ ফসকেও যদি বেরিয়ে আসে, আমিও তোমাকে ভালোবাসি, তবে তো দুজনের মনেই ঠাঁয় পেলো দুই জ্বলজ্বলে মুহূর্ত যা আজীবন থেকে যায়।

৯. বিয়ের পর যেদিন মধুচন্দ্রিমায় যাবেন সেদিনটির কথা দুজনের কেউ-ই কোনদিন ভুলতে পারবেন না। সেই সময়ের প্রতিটা মুহূর্ত ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে থেকে যাবে মনে।

১০. প্রেমিকাদের মনে এমন মুহূর্ত সত্যিই চিরকাল থেকে যায়। দুজন এমন কোনো পরিবেশে ডেটিং করছেন যেখানে প্রেমিক পুরো সুযোগ নিতে পারেন। সেই অবস্থায় কিছুটা অসহায় বোধ করেন মেয়েরা। কারণ প্রেমিকা হয়তো অন্তরঙ্গ পরিস্থিতিতে যেতে চান না। কিন্তু দুর্বল মুহূর্তে প্রেমিক যে সুযোগ নিতেই পারেন। এই অবস্থায় যদি প্রেমিকা তার প্রিয়জনের কাছ থেকে নিরাপত্তার পুরোটুকু পেয়ে থাকেন, তাহলে তো কথাই নেই।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০১৫

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা


বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারীভাবে গৃহীত হয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় একই রকম দেখতে একটি পতাকা ব্যবহার করা হতো, যেখানে মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রংয়ের একটি মানচিত্র ছিল। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে মানচিত্রটি ফুটিয়ে তোলার অসুবিধা পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলার অন্যতম কারণ।১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্যবহৃত পতাকার উপর ভিত্তি করে এই পতাকা নির্ধারণ করা হয়, তখন মধ্যের লাল বৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল, পরবর্তীতে পতাকাকে সহজ করতেই, মানচিত্রটি বাদ দেয়া হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাপানের জাতীয় পতাকার সাথে মিল রয়েছে, কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে বাংলাদেশের সবুজের স্থলে, জাপানীরা সাদা ব্যবহার করে। লাল বৃত্তটি একপাশে একটু চাপানো হয়েছে, পতাকা যখন উড়বে তখন যেন এটি পতাকার মাঝখানে দেখা যায়।

১৯৭০ সালের ৭ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশ গ্রহণের কথা ছিল। এই লক্ষ্যে ছাত্রদের নিয়ে একটি জয়বাংলা বাহিনী, মতান্তরে 'ফেব্রুয়ারী ১৫ বাহিনী' গঠন করা হয়। ছাত্র নেতারা এই বাহিনীর একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। এই লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (তৎকালীন ইকবাল হল) ১০৮ নং কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন। এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ন দাশ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ।

সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার উপর ভিত্তি করে সবার আলোচনার শেষে সবুজ জমিনের উপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান (খসরু) তখন ঢাকা নিউ মার্কেটের এক বিহারী দর্জির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনেন; এরপর ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ ও হাসানুল হক ইনু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়েদে আজম হল (বর্তমানে তিতুমীর হল)এর ৩১২ নং কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে মানচিত্রের বই নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকেন পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র। ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ পরিশেষে তার নিপুন হাতে মানচিত্রটি লাল বৃত্তের মাঝে আঁকেন,
১৯৭১ সালের ২রা মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্র নেতা আ.স.ম. আব্দুর রব। তিনি সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।পূর্ব পাকিস্তানের চিহ্ন চাঁদ তারা ব্যবহার না করার জন্য নতুন এই প্রতীক তৈরী করা হয়েছিল। সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যক্টবুক অনুযায়ী বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি বুঝাতে পতাকায় সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছিল