নিউজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নিউজ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬

সাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার তালিকা

কিছু পেশা আছে যা স্বাস্থ্যহানিকর। চাহিদাসম্পন্ন কিছু পেশা রয়েছে এ তালিকায়। এসব কাজের আড়ালে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার ডেটাবেজ এমন অস্বাস্থকর পেশার তালিকা তৈরি করেছে। কি কি ক্ষতি হচ্ছে এবং এর মাত্রা অনুযায়ী পেশাগুলোর স্কোর করা হয়েছে। যে পেশা যত ক্ষতিকর, শূন্য থেকে ১০০ পয়েন্টের স্কেলে তার স্কোর তত বেশি। এখানে জেনে নিন সবচেয়ে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার কথা।

২৭-২৪. সমানভাবে ক্ষতিকর তিনটি পেশা একই অবস্থানে রয়েছে। এদের একটি রেডিওলজিস্ট, যারা এক্স-রে ও অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ যন্ত্রপাতি চালনা করেন। একই অবস্থানে আছেন মেটাল রিফাইনিং ফার্নেস অপারেটর। এরা ধাতব পদার্থ গলানো এবং ফার্নেসের কাজ করেন। তৃতীয়টি হলো এমবালমারস। এরা সৎকারের আগে মৃতদেহকে প্রস্তুত করে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫২.৮।

২৩. নিউক্লিয়ার মেডিসিন টেকনোলজিস্ট তেজস্ক্রিয় রশ্মির যন্ত্রপানি পরিচালনা করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.০।

২২. রেফ্রিজারেশন মেকানিস এবং ইন্সটলার যারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কমার্শিয়াল রেফ্রিজারেশন সিস্টেম তৈরি ও মেরামতের কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৩।

২১. করোনারি কেয়ার ইউনিটসহ জরুরি রোগীর সেবায় নিয়োজিত সেবিকা পেশা আছে এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৫।

২০-১৭. চারটি পেশা রয়েছে একই অবস্থানে। একটি তেল, গ্যাস ও মাইনিং সাইটে কর্মরত সার্ভিস অপারেটর। দ্বিতীয় পেশা রাসায়নিক কারখানার অপারেটররা। দুটো ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৩.৭। তৃতীয়টি ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও প্যারামেডিকস যারা আঘাতপ্রাপ্ত বা অন্যান্য জরুরি অবস্থার রোগীর চিকিৎসা দেন। চতুর্থটি হলো খনিতে কাজ করা মেশিন অপারেটর। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এ দুটো পেশার স্কোর ৫৪.০।

১৬. রিফ্র্যাকটোরি ম্যাটেরিয়ালস রিপেয়ারস। এরা ফার্নেসেস, কিলনস, কুপোলাস, বয়লারস ইত্যাদি তৈরি ও মেরামত করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৪.৮।

১৫. অব্যবহৃদ মালামাল বা অন্যান্য উপকরণ যার সংগ্রহ করেন এবং এসব নিয়ে কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.০।

১৪. নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদনে কর্মরত প্রকৌশলীরা আছেন এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.২।

১৩-১২. একই অবস্থানে দুটো পেশা। একটি মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত ও মেরামতের কাজ। অন্যটি বিমানের পাইলট, কো-পাইলট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার। উভয় ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৫.৭।

১১. তেল ও গ্যাস ফিল্ডের ডেরিক অপারেটর। যারা উত্তোলন যন্ত্র পরিচালনার কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৬.০।

১০. এ অবস্থানে আছে সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট, টেকনলজিস্ট এবং টেকনিশিয়ানের কাজ। এরা অস্ত্রপচারে সাহায্য করেন এবং ল্যাবরেটরিতে নানা ধরনের টেস্ট করে থাকেন। স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ৩টি হুমকি হলো, রোগ এবং জীবাণুর মাঝে কাজ করা, দূষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা। ক্ষতির মাত্রায় এর স্কোর ৫৭.৩।

৯. স্টেশনারি পণ্য কারখানার প্রকৌশলী এবং বয়লার অপারেটররা আছেন নবম অবস্থানে। এরা স্টেশনারি ইঞ্জিন, বয়লার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ক্ষতিকর ৩টি স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো, দূষিত পরিবেশে অবস্থান করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা মারাত্মক পোড়া, কাটা বা অন্যান্য আঘাত। এর মোট স্কোর ৫৭.৭।

৮. পানি এবং দূষিত পানি পরিশোধনাগারে অপারেটররা ক্ষতিকর পেশার অষ্টমে আছেন। এ পেশার মানুষগুলো পানি পরিশোধনাগারের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সেরা ৩টি হুমকি হলো রোগ সংক্রমণের পরিবেশে কাজ করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা ভারী পোড়া, কাটা এবং ছড়ে যাওয়া। বিপজ্জনকমাত্রার মোট স্কোর ৫৮.২।

৭. হিস্টোটেকনলজিস্ট এবং এ কাজের প্রযুক্তিবিদরা আরো ক্ষতিকর পেশায় রয়েছেন। এরা বিপজ্জনক পরিবেশ, সংক্রমণের সম্ভাবনা এবং রোগ-জীবাণুর মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতিরমাত্রার স্কোর ৫৯.০।

৬. ইমিগ্রেশন ও কাস্টম অপারেটররা আছে ক্ষতিকর তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে। এরা মানুষ, পণ্যবাহী ট্রলি, পণ্য পরীক্ষা করাসহ নানা কাজ করে থাকেন। বিপজ্জনক কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংস্পর্শ এবং রেডিয়েশনের মাঝে কাজ করেন। মোট স্কোর ৫৯.৩।

৫. পডিয়াট্রিস্টরা আছে দারুণ স্বাস্থ্যঝুঁকির মাধ্যমে। এরা মানুষের পায় সংশ্লিষ্ট রোগ পরীক্ষা, সার্জারি ইত্যাদি কাজ করেন। এরা সংক্রমণের সম্ভাবনাময় পরিবেশ, রেডিয়েশন এবং দূষিত পরিবেশে থাকেন। এর মোট স্কোর ৬০.২।

৪. পশু চিকিৎসক এবং এ কাজে সংশ্লিষ্টরা আছেন দারুণ ঝুঁকিতে। এরা পশুর রোগ নির্ণয়, গবেষণা, চিকিৎসা এবং গবেষণাগারে কাজ করেন। যেকোনো রোগ-জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ পোড়া, কাটা, কামড় ইত্যাদি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬০.৩।

৩. অ্যানেসথেশিয়ার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক, নার্স এবং সহকারীদের কাজ আরো বেশি ঝুঁকির। এরা রোগ-জীবাণুপূর্ণ পরিবেশ, সংক্রমণ এবং রেডিয়েশনের মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতির স্কোর ৬২.৩।

২. ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা আছেন সবচেয়ে ক্ষতিকর পেশার দুই নম্বরে। তারা বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবা ইত্যাদি দেখাশোনা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ এবং পোড়া, কাটা ও মানসিক যন্ত্রণা দারুণ অস্বাস্থ্যকর। এ পেশার মোট স্কোর ৬২.৩। এ পেশার ক্ষতির মাত্রা অ্যানেসথেশিয়োলজিস্টদের মতো হলেও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অপেক্ষকৃত বেশি।

১. এ তালিকায় সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর পেশাখাত বলে চিহ্নিত হয়েছে দন্তচিকিৎসা। দাঁতের চিকিৎসক, সার্জন এবং অ্যাসিসটেন্টরা আছে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে। এরা সংক্রমণে ভরপুর পরিবেশ, রোগ ও জীবাণুর মধ্যে কাজ করা এবং বহু সময় বসে থেকে কাজ করেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬৫.৪। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬

সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্খিত মঞ্জিলে নিয়ে যেতে হবে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী অপশাসনে সারাদেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। নতুন বছরে কারারুদ্ধ দেশবাসীকে মুক্ত করার লড়াই চলবে। যৌথবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে সারাদেশে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত করা হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছে, সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে কিন্তু বাতিলের সামনে মাথা নত করেনি।

তিনি ছাত্রশিবিরের ২০১৬ সালের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনত্তর বৈঠকে এসব কথা বলেন। এসময় সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার, নব মনোনিত সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিন, মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শিবির সভাপতি বলেন, আজকের কার্যকরী পরিষদের সমাপনী অধিবেশন যখন করছি তখন কারা প্রকোষ্টে দিন যাপন করছেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মো. দেলাওয়ার হোসেনসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী। যাদের অনেকের উপর গ্রেফতারের পর থেকেই অমানুসিক নির্যাতন করা হয়েছে। জালিম সরকার মনে করেছিল ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আটকে রেখে এই সংগঠনের কাজকে দমাতে পারবে। কিন্তু তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ছাত্রশিবিরের লাখো নেতাকর্মী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, ত্যাগ কুরবানী ইসলামী আন্দোলনে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে যে নজির স্থাপন করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সুচনা করেছে। শাহাদাতের তামান্না বুকে ধারণ করে ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্খিত মঞ্জিলে নিয়ে যেতে হবে। একই সাথে ঈমানী মজবুতি নিয়ে ময়দানে অতীতের মত জোরালো ভূমিকা পালন করে যেতে হবে।

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিউর রহমান আকন্দ শাহাদাতবরণকারী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কথা স্মরণ করে বলেন, ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে, শত নির্যাতন সয়ে অপশাসন বিরোধী আন্দোলনে মাইলষ্টোন রচনা করেছেন। শহীদ ভাইয়েরা যে প্রেরণায় আমাদের উজ্জীবিত করে গেছেন, সেই প্রেরণাকে বুকে নিয়ে আমরা সামনের সকল বাঁধা মাড়িয়ে যাব। ইসলাম ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ছাত্রশিবিরই বাংলাদেশকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিবে। তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরই জাতির মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে। শত বাধা আর নির্যাতনের পরও তরুন প্রজন্ম ছাত্রশিবিরকেই মেধা বিকাশ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের জন্য গাইডলাইন হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, অসংখ্য ভাইয়ের শাহাদাতে আজ বাংলাদেশের যমীন কথা বলতে শুরু করেছে। ছাত্রশিবির আজ বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে পৌছে গেছে। অগণিত ভাইয়েরা নিজের জীবন দিয়ে ছাত্রশিবিরকে যে উচ্চতায় তুলে ধরেছেন, ত্যাগের বিনিময়েই নেতাকর্মীদের সে অবস্থান ধরে রাখতে হবে। আদর্শের দাওয়াত দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। নিত্য নতুন কৌশল আর প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসূচি পালন করতে হবে।