বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৬

স্প্রে করলেই হাতের মুঠোয় প্রেমিকা!

বশীকরণ বা জাদুটোনা নয়। এমনকী, মধ্যযুগের ইউরোপের ‘লাভ-পোশন’ও নয়। এটি নেহাতই নিরীহ একটি নেজাল-স্প্রে। আর এর গন্ধেই কুপোকাত হয়ে যেতে পারেন বড় বড় সুন্দরী।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন এই বিশেষ নেজাল স্প্রে অক্সিটোসিন হরমোনের এক কৃত্রিম রূপান্তর। এই হরমোনকে সাধারণত ‘লাভ হরমোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। মানুযের প্রেমে পড়ার প্রবৃত্তির মূলে নাকি কাজ করে থাকে এই হরমোনটিই।

এই নেজাল-স্প্রে পরীক্ষামূলকভাবে ৪৬ জন নারীর ওপরে প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, তাঁরা তাঁদের পুরুষ সঙ্গীর প্রতি তীব্র প্রেম অনুভব করেছেন। এই নারীদের বয়স ২০-র কোঠায়।

কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। যে সব নারী জন্মনিয়ন্ত্রক পিল ব্যবহার করেন, তাঁদের ওপরে কোনও প্রভাবই ফেলেনি এই স্প্রে। অতএব, সাধু সাবধান!

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬

সাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার তালিকা

কিছু পেশা আছে যা স্বাস্থ্যহানিকর। চাহিদাসম্পন্ন কিছু পেশা রয়েছে এ তালিকায়। এসব কাজের আড়ালে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার ডেটাবেজ এমন অস্বাস্থকর পেশার তালিকা তৈরি করেছে। কি কি ক্ষতি হচ্ছে এবং এর মাত্রা অনুযায়ী পেশাগুলোর স্কোর করা হয়েছে। যে পেশা যত ক্ষতিকর, শূন্য থেকে ১০০ পয়েন্টের স্কেলে তার স্কোর তত বেশি। এখানে জেনে নিন সবচেয়ে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার কথা।

২৭-২৪. সমানভাবে ক্ষতিকর তিনটি পেশা একই অবস্থানে রয়েছে। এদের একটি রেডিওলজিস্ট, যারা এক্স-রে ও অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ যন্ত্রপাতি চালনা করেন। একই অবস্থানে আছেন মেটাল রিফাইনিং ফার্নেস অপারেটর। এরা ধাতব পদার্থ গলানো এবং ফার্নেসের কাজ করেন। তৃতীয়টি হলো এমবালমারস। এরা সৎকারের আগে মৃতদেহকে প্রস্তুত করে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫২.৮।

২৩. নিউক্লিয়ার মেডিসিন টেকনোলজিস্ট তেজস্ক্রিয় রশ্মির যন্ত্রপানি পরিচালনা করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.০।

২২. রেফ্রিজারেশন মেকানিস এবং ইন্সটলার যারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কমার্শিয়াল রেফ্রিজারেশন সিস্টেম তৈরি ও মেরামতের কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৩।

২১. করোনারি কেয়ার ইউনিটসহ জরুরি রোগীর সেবায় নিয়োজিত সেবিকা পেশা আছে এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৫।

২০-১৭. চারটি পেশা রয়েছে একই অবস্থানে। একটি তেল, গ্যাস ও মাইনিং সাইটে কর্মরত সার্ভিস অপারেটর। দ্বিতীয় পেশা রাসায়নিক কারখানার অপারেটররা। দুটো ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৩.৭। তৃতীয়টি ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও প্যারামেডিকস যারা আঘাতপ্রাপ্ত বা অন্যান্য জরুরি অবস্থার রোগীর চিকিৎসা দেন। চতুর্থটি হলো খনিতে কাজ করা মেশিন অপারেটর। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এ দুটো পেশার স্কোর ৫৪.০।

১৬. রিফ্র্যাকটোরি ম্যাটেরিয়ালস রিপেয়ারস। এরা ফার্নেসেস, কিলনস, কুপোলাস, বয়লারস ইত্যাদি তৈরি ও মেরামত করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৪.৮।

১৫. অব্যবহৃদ মালামাল বা অন্যান্য উপকরণ যার সংগ্রহ করেন এবং এসব নিয়ে কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.০।

১৪. নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদনে কর্মরত প্রকৌশলীরা আছেন এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.২।

১৩-১২. একই অবস্থানে দুটো পেশা। একটি মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত ও মেরামতের কাজ। অন্যটি বিমানের পাইলট, কো-পাইলট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার। উভয় ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৫.৭।

১১. তেল ও গ্যাস ফিল্ডের ডেরিক অপারেটর। যারা উত্তোলন যন্ত্র পরিচালনার কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৬.০।

১০. এ অবস্থানে আছে সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট, টেকনলজিস্ট এবং টেকনিশিয়ানের কাজ। এরা অস্ত্রপচারে সাহায্য করেন এবং ল্যাবরেটরিতে নানা ধরনের টেস্ট করে থাকেন। স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ৩টি হুমকি হলো, রোগ এবং জীবাণুর মাঝে কাজ করা, দূষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা। ক্ষতির মাত্রায় এর স্কোর ৫৭.৩।

৯. স্টেশনারি পণ্য কারখানার প্রকৌশলী এবং বয়লার অপারেটররা আছেন নবম অবস্থানে। এরা স্টেশনারি ইঞ্জিন, বয়লার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ক্ষতিকর ৩টি স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো, দূষিত পরিবেশে অবস্থান করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা মারাত্মক পোড়া, কাটা বা অন্যান্য আঘাত। এর মোট স্কোর ৫৭.৭।

৮. পানি এবং দূষিত পানি পরিশোধনাগারে অপারেটররা ক্ষতিকর পেশার অষ্টমে আছেন। এ পেশার মানুষগুলো পানি পরিশোধনাগারের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সেরা ৩টি হুমকি হলো রোগ সংক্রমণের পরিবেশে কাজ করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা ভারী পোড়া, কাটা এবং ছড়ে যাওয়া। বিপজ্জনকমাত্রার মোট স্কোর ৫৮.২।

৭. হিস্টোটেকনলজিস্ট এবং এ কাজের প্রযুক্তিবিদরা আরো ক্ষতিকর পেশায় রয়েছেন। এরা বিপজ্জনক পরিবেশ, সংক্রমণের সম্ভাবনা এবং রোগ-জীবাণুর মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতিরমাত্রার স্কোর ৫৯.০।

৬. ইমিগ্রেশন ও কাস্টম অপারেটররা আছে ক্ষতিকর তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে। এরা মানুষ, পণ্যবাহী ট্রলি, পণ্য পরীক্ষা করাসহ নানা কাজ করে থাকেন। বিপজ্জনক কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংস্পর্শ এবং রেডিয়েশনের মাঝে কাজ করেন। মোট স্কোর ৫৯.৩।

৫. পডিয়াট্রিস্টরা আছে দারুণ স্বাস্থ্যঝুঁকির মাধ্যমে। এরা মানুষের পায় সংশ্লিষ্ট রোগ পরীক্ষা, সার্জারি ইত্যাদি কাজ করেন। এরা সংক্রমণের সম্ভাবনাময় পরিবেশ, রেডিয়েশন এবং দূষিত পরিবেশে থাকেন। এর মোট স্কোর ৬০.২।

৪. পশু চিকিৎসক এবং এ কাজে সংশ্লিষ্টরা আছেন দারুণ ঝুঁকিতে। এরা পশুর রোগ নির্ণয়, গবেষণা, চিকিৎসা এবং গবেষণাগারে কাজ করেন। যেকোনো রোগ-জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ পোড়া, কাটা, কামড় ইত্যাদি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬০.৩।

৩. অ্যানেসথেশিয়ার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক, নার্স এবং সহকারীদের কাজ আরো বেশি ঝুঁকির। এরা রোগ-জীবাণুপূর্ণ পরিবেশ, সংক্রমণ এবং রেডিয়েশনের মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতির স্কোর ৬২.৩।

২. ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা আছেন সবচেয়ে ক্ষতিকর পেশার দুই নম্বরে। তারা বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবা ইত্যাদি দেখাশোনা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ এবং পোড়া, কাটা ও মানসিক যন্ত্রণা দারুণ অস্বাস্থ্যকর। এ পেশার মোট স্কোর ৬২.৩। এ পেশার ক্ষতির মাত্রা অ্যানেসথেশিয়োলজিস্টদের মতো হলেও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অপেক্ষকৃত বেশি।

১. এ তালিকায় সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর পেশাখাত বলে চিহ্নিত হয়েছে দন্তচিকিৎসা। দাঁতের চিকিৎসক, সার্জন এবং অ্যাসিসটেন্টরা আছে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে। এরা সংক্রমণে ভরপুর পরিবেশ, রোগ ও জীবাণুর মধ্যে কাজ করা এবং বহু সময় বসে থেকে কাজ করেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬৫.৪। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৬

ভারতে পাচারকালে ৩১৮টি ছাগলের চামড়া জব্দ


বেনাপোল, যশোর: জেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ৩১৮টি ছাগলের চামড়া জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তবে এসময় কোনো পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি তারা।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেনাপোলের দৌলতপুর মাঠ থেকে চামড়াগুলো জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, পাচারকারীরা সীমান্ত পথে চামড়ার একটি চালান ভারতে পাচার করবে বলে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করে বিজিবি। সকালে কয়েক যুবককে মাথায় বস্তা নিয়ে ভারতের দিকে যেতে দেখে ধাওয়া করলে তারা ছয়টি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বস্তাগুলোর ভেতরে ৩১৮টি ছাগলের চামড়া পাওয়া যায়। যার দাম প্রায় চার লাখ টাকা।

২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দৌলতপুর ক্যাম্পের সুবেদার সামছুল হক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘জব্দকৃত চামড়াগুলো বেনাপোল কাস্টমস আটক শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬

জিহাদ করতে ইচ্ছুক এমন ভাইদের জন্য লেখা

বাংলাদেশের বর্তমান অনেক ভাই আছেন যারা জিহাদ করতে ইচ্ছুক কিন্তু কোন মাধ্যম না জানার কারণে কি করবেন বুঝে উটতে পারছেন না, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি দিক নির্দেশনা। নিঃসন্দেহে কাফের এবং মুসলিমের পার্থক্য সালাত দিয়ে। কিছু ভাই থাকতে পারে যারা জিহাদের পথকে বুঝতে পেরেছেন কিন্তু এখনো ৫ ওয়াক্ত সালাত ঠিক মতো আদায় করছেন না। হয়তো ৪ ওয়াক্ত আদায় করছেন এক ওয়াক্ত বাদ যাছে, নয়তো ২ ওয়াক্ত বাদ যাচ্ছে ৩ ওয়াক্ত আদায় করছেন অথবা এরকম কিছু একটা হচ্ছে তারা আজ এই লেখাটি পড়ার সাথে সাথে তওবা করে নিন এবং ৫ ওয়াক্ত জামাতে আদায় করার নিয়ত করে নিন। ইসলামের সকল বিধি নিষেধ মানে চলুন। যার যার অবস্থান থাকে জিহাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। মনে রাখবেন নিজের জান এবং মাল দ্বারাই জিহাদ করতে হবে। নিজেকে আল্লাহ্র রাস্তায় নিয়জিত করতে হবে। নিজেকে আল্লার পথেই বিলিয়ে দিতে হবে। তাহলেই আসবে সে মহা- সাফল্য হয়তো শাহাদাত নয়তো গাজী। বাংলাদেশে খলীফা বা আমীরের আদেশ আশার সাথে সাথেই জিহাদে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে। যতদিন জিহাদের নির্দেশ না আসে তত দিন কি করবেন? আমাদের মনে রাখতে হবে পশ্চিমা গুষ্টি আমাদের সাথে আল্লার ইচ্ছায় সামরিক যুদ্ধে জয়লাভ করে না বরং জয়লাভ করে মিডিয়া যুদ্ধে। তারা এই মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো পৃথিবী। তাদের এই মিডিয়া দ্বারা মুসলিমদের মগজ ধূলায় করেছে। মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বলে মুসলিমদের ধোঁকা দিচ্ছে। হক এবং বাতিলকে মিশ্রিত করে ফেলেছে। আমাদের ঠিক এই স্থানে আঘাত করতে হবে। কি ভাবে আঘাত করবেন তাদের মতো বড় বড় মিডিয়া তো আপনার হাতে নেই তাতে কি হয়েছে। আপনার কাছে ইন্টারনেট আছে, একটি PC অথবা mobile আছে এটি নিয়েই ঝাঁপিয়ে পরুন কাফেরদের বীরুধে। ফেচবুক, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি যে সব সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়া আছে তাতে শুরু করে দিন মিডিয়া জিহাদ। মানুষের মনে আবার ঢুকিয়ে দিন কালেমার সঠিক ব্যাখ্যা। দূর করেদিন জিহাদ সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা। আপনি শুরু করুন ইনশাআল্লাহ্ আল্লাহ্ আপনাকে সাহায্য করবেন। অনেক ভাই আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইছেন কিন্তু এখন সে সময় আসেনি তাই আমরা তা পারছি না। আর আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন সে দিন বেশি দূরে নয় আল্লাহ্ পরিস্থিতি উল্টিয়ে দিবেন। ততদিন এ ভাবে মিডিয়া জিহাদ চালিয়ে যান। কোন ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে খাট করে দেখবেন না, মনে রাখবেন ক্ষুদ্রের উপরই বৃহৎ তৈরি হয়। চেষ্টা চালিয়ে যান ইনশাআল্লাহ্ জয়ী আমরাই হবো।

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোনে নজরদারি করবে ভারত

বাংলাদেশ সীমান্তে ড্রোনে নজরদারি করবে ভারত


কলকাতা সংবাদদাতা

বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারির জন্য ড্রোন ব্যবহার করবে ভারত। এর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, পাচারকারী ও জঙ্গি কার্যকলাপের ওপর নজর রাখা হবে। এই বিষয়ে সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থা, দেশটির অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলোর মধ্যে এক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মেহর্ষি বলেন, ‘সামরিক ও বেসামরিক প্রয়োজনে ড্রোন ব্যাবহারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের কাজ করছে সরকার। ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে আগামীতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করাই একমাত্র পথ। সেই পথে এগোনোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ভারত।’  ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার ৯৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক এক হাজার ১৩৮ কিলোমিটার সীমান্তকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জঙ্গিরা প্রবেশ করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। এ কারণে গত এক বছরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্ত বরাবর লেজার রশ্মির বেড়া স্থাপন, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গভীর খাল খননের মতো পরিকল্পনাও নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বারবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ির কথা বলা হলেও বাস্তবে কোথাও না কোথাও ফাঁক-ফোকর থেকে গেছে বলে মনে করে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এতে সীমান্ত পেরিয়ে জাল নোটের কারবার, মানব পাচার ও বিক্ষিপ্তভাবে অনুপ্রবেশ চলেছে বলে দাবি ভারতের। এ কারণে এবার বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোনকে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে ড্রোন ব্যবহার করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। একইভাবে এবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাকে জোরদার করার লক্ষ্যে ড্রোন ব্যবহার করবে ভারত।  

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৫

রাজধানীর ভাটারায় হামলা বোমাবাজির পর গ্রেপ্তার ২ ছাত্রলীগ নেতা

গতকাল রাতে রাজধানীর ভাটারার জগন্নাথপুর এলাকায় গ্রেপ্তার দুই ছাত্রলীগ নেতা। ছবি : কালের কণ্ঠ
অ- অ অ+

রাজধানীর ভাটারায় দলবল নিয়ে হামলা ও বোমাবাজির পর ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। তাঁদের কাছ থেকে চাপাতিসহ দেশি কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ভাটারার জগন্নাথপুর আজিজ সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর এলাকার ব্যবসায়ী ও লোকজন বিক্ষোভ করেছে। তাদের অভিযোগ, একটি হোটেলের মালিকের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে ছাত্রলীগের এই দুই নেতা লোকজন নিয়ে ওই হোটেল ও এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মাহমুদুল হাসান অঞ্জন ও সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া।

ভাটারা থানার ওসি নূরুল মুত্তাকিন দুজনকে গ্রেপ্তার ও দেশি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিসমিল্লাহ নামের খাবার হোটেলটির মালিক বিলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান অঞ্জন ও জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে কমপক্ষে ৩০ জন তাঁর হোটেলে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে না চাইলে পরের দিন আসবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এরপর গত সোমবার তাদের পক্ষে উঠতি বয়সী সাত-আটজন কিশোর এসে তাঁর কাছে আবার ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় কিশোররা তাঁকে মারধর করে। তখন তাঁর চিত্কারে স্থানীয় লোকজন এসে ওই কিশোরদের আটক করে। পরে তাদের স্থানীয় বাড়ি মালিক সমিতি 'জগন্নাথপুর সোসাইটির' কার্যালয়ে নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে বিচার বসে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মালিক সমিতির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা অঞ্জন ও জিয়ার নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোকজন মিছিল করে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে বিসমিল্লাহ হোটেলসহ এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। তারা বাড়ি মালিক সমিতির কার্যালয়েও হামলা চালায়। পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকলে মসজিদের মাইক থেকে হামলার বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানো হয়। এরপর  স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের আটক করার চেষ্টা করে। তখন হামলাকারীরা ককটেল ফাটিয়ে পিছু হটে। কিন্তু ধরা পড়ে যান অঞ্জন ও জিয়া। পরে পুলিশ ডেকে তাঁদের তুলে দেওয়া হয়।

গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জিয়া ও অঞ্জন বিএনপির সময় ছাত্রদল করত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা ছাত্রলীগের নেতা হয়েছে।

অতি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

অতি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত সিনেটর ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী র‍্যান্ড পল তাঁর বিবেচনায় ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ৩২টি দেশ থেকে উদ্বাস্তু গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে একটি প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করেছেন। এই খসড়া আইনে যে ৩২টি দেশকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মুসলিমপ্রধান দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘উদ্বাস্তু আগমন আইনের আওতায় জঙ্গিদের আগমন বন্ধ করো’-এ শিরোনামের খসড়া আইনটিতে উদ্বাস্তু বাছাইয়ের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করে ছয়টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেমন- আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ইতিহাস, তাঁর কার্যাবলির ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি। এই ছয়টি শর্ত পুরোপুরি পালিত হয়েছে মর্মে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর থেকে নিশ্চয়তা প্রদানের পরই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিনেটর পল দাবি করেছেন, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা এড়াতে সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্দেশ্যেই তিনি এই প্রস্তাব করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫

অবশেষে জানা গেলো বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধের কারন

অবশেষে জানা গেলো বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধের কারন। জনগনের নিরাপত্তা বা জঙ্গী দমন নয়, বরং এর আড়ালে ছিল বাংলাদেশের ইন্টারনেট লাইনের ওপর চাপ কমিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরাকে ১০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড ব্যান্ডউডথ হস্তান্তর। এ কাজটি করা হয়েছে হত ১ ডিসেম্বর, যা গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক বিতরনে গেছে।

১০ জিবিপিএস খুবই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইন। ফেসবুক চালু অবস্থায় বাংলাদেশের কোটি কোটি গ্রাহকের স্বাভাবিক লাইন চালু রেখে এই পরিমান ব্যান্ডউডথ হস্তান্তর করতে গেলে গতি কমে গিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারত, যুব সমাজ ক্ষেপে উঠত, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষেই যেতো। এসকল আশঙ্কায় বুদ্ধি করে জঙ্গী দমনের নামে বাংলাদেশের প্রযুক্তি মন্ত্রীরা আগে থেকেই বন্ধ করে দেয় সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক! যার ফলে কোটি কোটি বাংলাদেশী অনলাইন থেকে বিযুক্ত হয়ে পড়ে। মুলত, ভারতকে নানাবিধ আইটি সুবিধা তথা বিনাশুল্কে মোবাইল ফোন ব্যবসা, এদেশের কল ও ডাটা ভারতে মনিটর নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য গত ৬ বছর ধরে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরী কমিশনে একজন হিন্দু চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসকে বসানো হয়। তার অবসরের পরে ভারতীয় লবি ও শেখ হাসিনার পুত্রের সুপারিশে সেখানে বসানো হয়েছে ওয়াশিংটন মেট্র্ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদকে। এর আগেই পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের আইটি খাতের উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) উদ্যোক্তা বিক্রম দাশ গুপ্তকে। তিনি বাংলাদেশের আইটি ও আইটি সক্ষম সেবা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) কৌশলগত নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করছেন।

একদিকে বাংলাদেশে যখন ফেসবুক ভাইবারের জন্য চলছে হাহাকার, ঠিক তখন অপর পাড়ে ত্রিপুরায় কল্পনার হাইস্পীড লাইন পেয়ে চলছে মহাউৎসব। যেনো তারা জয় করেছে বাংলাদেশ। এভাবেই বার বার হারছে বাংলাদেশ, আর লুটে নিচ্ছে হিন্দুস্তান।

........হয়ত হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত এক এক করে এভাবেই ভারত নিয়ে যাবে তাদের দরকারী সব, যা পারে। শেষে কখনও যদি বাংলার প্রকৃত মুক্তি আসে, স্বাধীনতা পায়, তবে এইসব পরাধীনতার শোধ তুলে নেয়।

বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পায় না দুদক


পাঁচ বছরে দুদকের কৌশলী পদক্ষেপে সরকারি দলের দুই শতাধিক রাজনীতিবিদ ও সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা থেকে রেহাই পাননি।
ওই সময়ে আরও কয়েক হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান পর্যায়ে নথিভুক্ত (মামলার জন্য উপযুক্ত নয়) এবং মামলা করার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ভাষায় ‘অভিযোগের আমলযোগ্য তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণে’ তাঁরা অব্যাহতি পেয়েছেন।
তবে দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে দুদক কাউকেই ছাড় দেয় না। কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করে না। অনুসন্ধানের সময় আদালতে উপস্থাপন করার মতো তথ্য না পেলে অভিযোগটি নথিভুক্ত করে কমিশন। আর তদন্তে কোনো অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
দুদক সূত্র জানায়, ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার কয়েকবারে ৩৩৭ জনের তালিকা পাঠায় দুদকে। তাঁদের সবাই সরকারদলীয় নেতা কিংবা সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু দুদক আইনে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় ভিন্ন কৌশলে তাঁদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগের ‘সত্যতা’ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া, ‘মানবিক বিবেচনা’য় আপিল না করা এবং আপিলের পর উচ্চ আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের আবেদন করা—এ তিন পদ্ধতিতে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।
কিন্তু গত ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ হাজি সেলিমের দুর্নীতির মামলা শেষ মুহূর্তে না চালানোর জন্য দুদকের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি ওই আদেশে বলেন, শুনানিকালে এভাবে খারিজের আবেদন করা বা মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে আদালত বিভ্রান্ত হন। হাজি সেলিমের এই মামলায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের দণ্ড বাতিল হয়।
দুদকের প্যানেল আইনজীবী খুরশিদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, যে আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খুবই স্পষ্ট। তাই একই ধরনের কোনো মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে আপিল বিভাগ নিরুৎসাহিত করেছেন।
সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এভাবে একের পর এক ছাড় পেয়ে গেলেও বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্তে খুবই কঠোর অবস্থানে দুদক। এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদকে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ’৯৬ সালের একটি নোটিশের ধারাবাহিকতায় সম্পদ বিবরণী দিতে হয়েছে দুদকে। গত বছর হিসাব বিবরণী দিতে দুদকে এসে অলি আহমদ সাংবাদিকদের কাছে বলেন, মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার খেসারত হিসেবে তাঁকে দুদকে আসতে হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও তাঁর প্রবাসী ভাই মঞ্জুর আহমদ, বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার, এম মোরশেদ খান, আলী আসগার লবি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা, মোসাদ্দেক আলী ফালু, এহছানুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুদকের মামলায় লড়ছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা চলছে। তবে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির একটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় দুদক। আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা পরিচালনার সময় সিঙ্গাপুর থেকে পাচার করা অর্থ ফেরত এনেছে দুদক।
দুদকে আসা অভিযোগ ও অনুসন্ধানের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন লাখের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ২২ হাজার অভিযোগের অনুসন্ধান হয়। বাকি অভিযোগগুলো দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় অনুসন্ধানের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। ২২ হাজার অভিযোগ অনুসন্ধানের পর প্রায় চার হাজার মামলা করা হয়। অভিযোগের ‘সত্যতা’ না পাওয়ায় নথিভুক্ত করা হয় প্রায় ১৮ হাজার অভিযোগ। এর মাধ্যমে ১৮ হাজার ৩৯ জন দুদকের অব্যাহতিপত্র পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ী ৬৯৭ জন, বিভিন্নভাবে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ১৫ হাজার ১১ জন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন অন্তত তিন হাজার।
অন্যদিকে এ সময়ে করা মামলাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১৩১টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ২ হাজার ৮৬৭টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ৩ হাজার ২২ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারদলীয় নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৮৬১ জন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাপক হারে দায়মুক্তির কারণে এ প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে দুদক বাস্তবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে কি না।
অভিযোগ থেকে দায়মুক্তির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা গেছে, অনেক ঘটনায় দৃশ্যমান প্রমাণ থাকলেও দুদকের কর্মকর্তারা এর কোনো প্রমাণ পাননি। নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দেওয়া হলফনামায় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও ‘ভুল হয়েছে’ অজুহাত গ্রহণ করে অনেককে দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেশ জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আলোচিত অনেক ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে কথিত রয়েছে।
নবম জাতীয় সংসদের হলফনামা নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষে হলফনামায় তথ্য দিতে ‘ভুল হয়েছে’ যুক্তি গ্রহণ করে আ ফ ম রুহুল হক ও আসলামুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় সংস্থাটি। সরকারদলীয় সাংসদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২১৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামলার সুপারিশ করলেও তাঁকে অব্যাহতি দেয় কমিশন। তবে সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাংসদ আবদুর রহমান বদি, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সাতক্ষীরার সাবেক সাংসদ আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বন্ধুদের সম্মাননা দেওয়ার সময় ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।
রেলওয়ের দুর্নীতির কালো বিড়াল ধরার ঘোষণা দিলেও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে। কিন্তু ঘুষের তথ্য ফাঁসকারী ইউসুফ আলী মৃধার গাড়িচালক মো. আলী আযম প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে না আসায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর রেলওয়ের নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে ১৩টি মামলা করে দুদক। ওই সব মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ আলী মৃধাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ছয়টি মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বহুল আলোচিত হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠলেও মামলায় তাঁকে আসামি করেনি দুদক। দায়মুক্তি দেয় অনুসন্ধান পর্যায়েই। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও মামলায় আনা হয়নি। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও দুদকের করা ৫৬টি মামলার একটিতেও আবদুল হাই বাচ্চু বা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি।
পেট্রোবাংলায় নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে ৪০৩টি হজ এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান চালায়নি দুদক। অথচ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ হাজি সেলিম, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান, আনন্দ শিপইয়ার্ডের মালিক আবদুল্লাহিল বারী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হুদা, ইউসিবিএলের এমডি মুহাম্মদ আলী, সোনালী ব্যাংকের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক হাসান খসরু, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছুর রহমান, পুলিশের ডিআইজি (এসবি) মো. রফিকুল ইসলাম, এসপি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

রাজস্ব আদায় ১৪% বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা

রাজস্ব আদায় ১৪% বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ রাজস্ব ১৪ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। অবশ্য এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয় নি। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৮ হাজার ৮ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা।
সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত নভেম্বরে রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা যা গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের নভেম্বরে আদায় হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছর ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে এনবিআরকে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে বছর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সমপ্রতি এক প্রাক্কলনে জানিয়েছে, অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
অবশ্য এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান মনে করেন, বছর শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে রাজস্ব আদায়ে গতি বেড়েছে। গেল নভেম্বরের রাজস্ব আদায়ে ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এর বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা ও বিপিসি’র কাছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মামলায় আটকে থাকা ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব উদ্ধারেও তত্পরতা শুরু হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড  বাড়ার ফলে আমদানি রপ্তানিতে গতি ফেরা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে অগ্রগতির ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শুরুতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও কাঙ্খিত পরিমানে আদায় না হওয়ায় পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। বছর শেষে অবশ্য ওই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা হলেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশের কিছু বেশি। চলতি বছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ শতাংশ। এ লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, স্বাধীনতার পর কখনোই ২৯ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় বাড়েনি। একবারই ২২ শতাংশ হয়েছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ত্তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, আমদানি-রপ্তানিতেও আহামরি গতি নেই। বিনিয়োগেও গতি মন্থর। ফলে সার্বিক বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হওয়ার কথা নয়।

বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

সিলেট-মৌলভীবাজারে ইউরেনিয়ামের সন্ধান

সিলেট-মৌলভীবাজারে ইউরেনিয়ামের সন্ধান
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা সিলেট ও মৌলভীবাজারের পাহাড়ি অঞ্চলে মূল্যবান পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম প্রচুর পরিমাণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরমাণু বোমার প্রধান উপকরণ হলো এই ইউরেনিয়াম।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দুই জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে এই তেজস্ক্রিয় খনিজের ঘনত্বও অনেক বেশি। এখন সরকার এগিয়ে এলেই এই খনিজ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) সম্মেলন কক্ষে ‘ইউরেনিয়াম সার্চিং অ্যা- কোয়ান্টিফিকেশন : এন অ্যাটেম্পট অ্যা- সাকসেস’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. একেএম ফজলে কিবরিয়া।

পরমাণু শক্তি কমিশনের নিউক্লিয়ার সেফটি, সিকিউরিটি ও সেফগার্ডস বিভাগের প্রধান এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, সিলেট ও মৌলভীবাজারের বেশ কয়েকটি স্থান থেকে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তাসম্পন্ন পাথর সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসব পাথরে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। কিছু কিছু পাথরে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামও রয়েছে, যার ঘনত্ব ৫০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) এরও বেশি।

ড. ফজলে কিবরিয়া জানান, পাথর সংগ্রহ করে ‘গামা স্প্রেকট্রোস্কপি’ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে এগুলোতে ইউরেনিয়াম এর সন্ধান পাওয়া পায়। পরে ‘এনার্জি ডিসপার্সিব এক্সরে’ পরীক্ষার মাধ্যমে নমুনায় ইউরেনিয়ামসহ অন্যান্য সম্ভাব্য মৌল শনাক্ত করা হয়। তিনি জানান, কিছু কিছু পাথরে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক খবর।

তিনি আরো জানান, জাপান ও কোরিয়ায় কয়েকটি নমুনা পাঠানো হয়েছিল। দুই দেশের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে বাংলাদেশের ফলাফল সঙ্গতিপূর্ণ। এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, এটাই বাংলাদেশে প্রথম চেষ্টা যার মাধ্যমে সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাগুলোর নমুনা সংগৃহিত ঠিক কোন স্থানে কতো ঘনত্বের ইউরেনিয়াম রয়েছে, সেসব স্থানের জিপিএস রেকর্ড সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।



ড. ফজলে কিবরিয়া জানান, দেশে ইউরেনিয়াম রয়েছে এমন খবর জানা থাকলেও লোকেশনের সঠিক ডাটাবেজের অভাবে সেসব ফলাফল বর্তমান সন্ধানে তেমন কাজেই আসেনি। এমনকি কোনো কোনো স্থানে ইউরেনিয়ামের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রকাশিত ইউরেনিয়াম উত্তোলন সম্বন্ধীয় বইয়ে উল্লেখিত তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী যেসব খনি থেকে বর্তমানে ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা হচ্ছে সেগুলোর অধিকাংশতেই এর ঘনত্ব ৩০০-১০০০ পিপিএম। এটা খুশির খবর যে, আমাদেরও উত্তোলনযোগ্য ঘনত্বের ইউরেনিয়াম রয়েছে। এখন প্রয়োজন কতোটুকু এলাকাজুড়ে এমন ঘনত্বের ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং দেশের আর কোথায় কোথায় এমন ঘনত্বের ইউরেনিয়াম রয়েছে তা খুঁজে বের করা। এ জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ‘বাপশক’ এর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. দিলীপ কুমার সাহা, ভৌত বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক ড.
আলেয়া বেগম, মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী আনিছা বেগম, খাদ্য ও তেজস্ক্রিয় ইনিস্টিটিউটের পরিচালক ড. খোরশেদ আলম, বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভাগের পরিচালক ড. হিমাংশু, প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী জাফর সাদেক, তেজস্ক্রিয় খনিজ ইউনিটের প্রাক্তন পরিচালক ড. ইউনুস আকন্দ প্রমুখ। সেমিনারে তেজস্ক্রিয় পদার্থের ওপর গবেষণা করেন এমন ১০০ জন বিজ্ঞানীও অংশ নেন।


ব্যাপক সম্ভাবনার হাতছানি, উদ্যোগ নেই ৪০ বছরেও

বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন সূত্র জানায়, ১৯৭৫ সালে মৌলভীবাজার জেলার তৎকালীন কুলাউড়ার উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা পাহাড়ে সন্ধান পাওয়া যায় ইউরেনিয়ামের। পরবর্তীকালে তৎকালীন সিনিয়র ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনূস এর নেতৃত্বে কমিশনের একটি দল হারাগাছা পাহাড়ে অনুসন্ধান কাজ চালিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেন। কমিশনের অনুসন্ধানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির সম্ভাবনাও নিশ্চিত হয়। তারপরও খনিজ পদার্থ আহরণ বা উত্তোলনের ব্যাপারে তখনো কোনো পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি।

১৯৮০ সালে পুনরায় দেশের একমাত্র ইউরেনিয়াম প্রকল্প এলাকা হারাগাছা পাহাড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। সেইসাথে অন্যান্য খনিজ সম্পদের ব্যাপারেও ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে প্রকল্পটির কার্যক্রমগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। ১৯৯১ সালে আবারো অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়। সে সময়ে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সিনিয়র ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনূস জাপানের আণবিক জ্বালানি বিষয়ক গবেষণাগারে হারাগাছা এলাকা থেকে সংগৃহিত নমুনা পরীক্ষার পর এখানে ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব পুনরায় নিশ্চিত করেন। সেই সাথে এ পাহাড়ে তেল, গ্যাস ও কয়লা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, হারাগাছা ছাড়াও বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রামের আরো প্রায় তিন শতাধিক স্থানে প্রতি ১০ লাখ মাটিকণার মধ্যে ৫০০-১৩০০ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম কণা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এসব স্থানে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫০০-১৩০০ পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম)।

আণবিক শক্তি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পারমাণবিক বোমা তৈরি এবং পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদক হিসেবে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। ২০০৯ সালের শেষ সময়ে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা কর্তৃক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদনের মূল উপাদান ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রয়োজন। ২০০৯ সালের ২৯ নভেম্বর সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এনামুল হক সিলেটসফরকালে জানান, জুড়ী উপজেলায় আবিষ্কৃত ইউরেনিয়াম আকরিক প্রকল্পটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে আণবিক শক্তি কমিশন। প্রাথমিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জুড়ীতে আবিষ্কৃত ইউরেনিয়াম আকরিক প্রকল্প থেকে ইউরেনিয়াম উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। কিন্তু অধ্যাবধি বাস্তবে এ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর এবং পারমাণবিক শক্তি কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া (বর্তমানে জুড়ী) উপজেলার ফুলতলা ও কুলাউড়া উপজেলার সাগরনাল এবং সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া যায়। ইউরেনিয়াম অনুসন্ধানের জন্য গত ২৭ বছরে ওইসব এলাকায় ৩০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফরের সহাতায় এ কাজ করে পারমাণবিক শক্তি কমিশন। পরবর্তীতে পারমাণবিক শক্তি কমিশন খনন কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে আর নতুন কোনো অনুসন্ধান চালানো হয়নি।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত খনিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ জ্বালানি তেল, গ্যাস, কয়লা, চুনাপাথর, ইউরেনিয়াম, কাঁচবালি, চীনামাটি, কঠিন শিলা, পিট কয়লা, ভারি মেটাল ও লাইম স্টোন। মূল্যবান এসব খনিজ সম্পদের প্রায় সবকয়টিরই অস্তিত্ব রয়েছে সিলেট বিভাগে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বড়লেখার হাকালুকি হাওরে পিট কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হবে। খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হলে মাথাপিছু এ দেশের জাতীয় আয় দাঁড়াবে ৮২৫ ডলার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ডলারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার হারাগাছা পাহাড়ই নয়, কুলাউড়া উপজেলার সাগরনাল এবং সিলেট জেলার জৈন্তাপুরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ইউরেনিয়াম আহরণ করলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হবে। এছাড়া বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী বোবারথল, সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাশটিলায়ও ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান জানান, জুড়ীতে ইউরেনিয়াম, মাধবকুণ্ডের পেছনে সীমান্তবর্তী বিওসি টিলা ও ফুলছড়া চা বাগানে তৈলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর রয়েছে। এইসব খনিজ সম্পদকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে একটি রিপোর্ট খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে ২০১১ সালের নভেম্বর মাসের শেষদিকে একটি টিম মৌলভীবাজারে আসে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে অদ্যাবধি এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এবার নিদের্শনা আসলে কাজ শুরু করা হবে।More

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

বাংলাদেশের সুন্দরবনে আর মাত্র ১০৬টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার অবশিষ্ট আছে

সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনে আর মাত্র ১০৬টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার অবশিষ্ট আছে৷ ক্যামেরা ক্যাপচার পদ্ধতিতে পাওয়া এ সংখ্যায় বিস্মিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞসহ অনেকই৷
বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী অঞ্চলের বন সংরক্ষক তপন কুমার দে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ক্যামেরা ক্যাপচার পদ্ধতির জরিপে বাংলাদেশ এবং ভারতীয় সুন্দরবনে ৮৩ থেকে ১৩০টি বাঘের সন্ধান পাওয়া গেছে৷ এর গড় হিসেবে বাংলাদেশ অংশে প্রকৃত বাঘের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০৬টি হতে পারে৷''
অথচ এর আগে, ২০০৪ সালে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পায়ের ছাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত জরিপে ছয় হাজার বর্গকিলোমিটারের সুন্দরবনে ৪৪০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার গণনা করা হয়৷ এর মধ্যে ১২১টি পুরুষ, ২৯৮টি বাঘিনী এবং ২১টি শিশু বাঘ ছিল বলে জানা যায়৷ এরপর ২০০৬ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিং ও আপেক্ষিক সংখ্যা পদ্ধতি অনুসরণ করে সুন্দরবনের এক শুমারিতে দুই শ'টি বাঘের কথা বলা হয়েছিল৷ কিন্তু এবার ক্যামেরা ক্যাপচার পদ্ধতিতে এই গণনা করা হলে আগের করা পায়ের ছাপ পর্যবেক্ষণ বা ‘পাগ মার্ক' পদ্ধতির ফলাফলটি ভুল প্রমাণিত হলো৷
তপন কুমার দে বলেন, ‘‘সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে যে বাঘের সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে, তা মোটামুটি নির্ভুল৷ তিনি বলেন, ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জরিপ শেষ হয় গত এপ্রিল মাসে৷ এর আগে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে ৭৪টি বাঘ থাকার কথা বলা হয় অন্য একটি জরিপে৷''
উল্লেখ্য, সুন্দরবনের মাত্র ৪০ শতাংশ ভারতের মধ্যে পড়ে৷'
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক ও বাঘ বিশেষজ্ঞ মনিরুল খান জানান, ‘‘নতুন জরিপে বাঘ কমে যাওয়ার আশঙ্কাই সত্যি হলো৷ তবে বাঘের সংখ্যা আমাদের শঙ্কার চেয়েও অনেক কমে গেছে৷''
তিনি জানান, ‘‘এর আগে আমার নিজস্ব গবেষণায় দুই শ'টির কাছাকাছি বাঘ থাকার তথ্য পেয়েছি৷'' তার কথায়, ‘‘চোরাশিকার ও বনাঞ্চলের আশেপাশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণেই বাঘের সংখ্যা কমছে৷ বাঘের খাবার এবং আবাস এখন হুমকির মুখে৷ তাই সরকারের উচিত বাঘ রক্ষায় আরো পদক্ষেপ নেয়া৷''
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ও ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক মো: আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বনবিভাগ আগে ৪৪০টি বাঘ থাকার কথা বলেছে, এখন বলছে ১০৬টি৷ সরকারি এই তথ্য আমাদের মানতে হবে৷ তবে বাঘ যে কমে যাচ্ছে, এটাই সত্য৷ চোরাকারবারিদের শিকার আর খাবার সঙ্কটে বাঘ কমছে৷''
তাই তিনি বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা রোধ এবং বিপন্ন এ প্রজতি রক্ষায় এখনই সুন্দরবনে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সব ধরনের প্রতিনিধির অংশগ্রহণে স্বাধীন ‘অ্যান্টি পোচিং ইউনিট' গঠনের দাবি জানান৷
ওদিকে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড' জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী বাঘ বিলুপ্তির শঙ্কায় রয়েছে তারা৷ প্রায় এক লাখ বাঘ থেকে এই সংখ্যা এখন এক হাজার নয় শ' থেকে তিন হাজার ছয় শ'তে নেমে এসেছে৷
‘ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া'-র ওয়াই. ভি. ঝালা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এ সংখ্যা এক ধরনের বাস্তবতা৷ তার মতে, ‘‘সুন্দরবনে আগে ৪৪০টি বাঘ থাকার তথ্য একটি কল্পকথা৷ সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে সর্বোচ্চ দুই শ'টি বাঘ থাকতে পারে৷''

তোমাদের যুদ্ধ করার হুকুম দেয়া হয়েছে, জিহাদ, ক

 
২১৬.) তোমাদের যুদ্ধ করার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তা তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর। হতে পারে কোন জিনিস তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর অথচ তা তোমাদের জন্য ভালো। আবার হতে পারে কোন জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ। আল্লাহ‌ জানেন, তোমরা জানো না।

 
২১৭.) লোকেরা তোমাকে হারাম মাসে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে। বলে দাওঃ ঐ মাসে যুদ্ধ করা অত্যন্ত খারাপ কাজ। কিন্তু আল্লাহ‌র পথ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখা, আল্লাহ‌র সাথে কুফরী করা, মসজিদে হারামের পথ আল্লাহ‌ – বিশ্বাসীদের জন্য বন্ধ করে দেয়া এবং হারাম শরীফের অধিবাসীদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া আল্লাহ‌র নিকট তার চাইতেও বেশী খারাপ কাজ। আর ফিত্‌না হত্যাকান্ডের চাইতেও গুরুতর অপরাধ।২৩২ তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেই যাবে, এমন কি তাদের ক্ষমতায় কুলোলে তারা তোমাদেরকে এই দ্বীন থেকেও ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। (আর একথা খুব ভালোভাবেই জেনে রাখো), তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই এই দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মারা যাবে, দুনিয়ায় ও আখেরাতে উভয় স্থানে তার সমস্ত কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়ে যাবে। এই ধরনের সমস্ত লোকই জাহান্নামের বাসিন্দা এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।২৩৩

 
২১৮.) বিপরীত পক্ষে যারা ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর পথে বাড়ি-ঘর ত্যাগ করেছে ও জিহাদ করেছে২৩৪তারা সঙ্গতভাবেই আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশী। আর আল্লাহ‌ তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদের প্রতি নিজের করুণাধারা বর্ষণ করবেন।

 
২১৯.) তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছেঃ মদও জুয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কি? বলে দাওঃ ঐ দু’টির মধ্যে বিরাট ক্ষতিকর বিষয় রয়েছে যদিও লোকদের জন্য তাতে কিছুটা উপকারিতাও আছে, কিন্তু তাদের উপকারিতার চেয়ে গোনাহ অনেক বেশী।২৩৫

 
২২০.) তোমাকে জিজ্ঞেস করছেঃ আমরা আল্লাহর পথে কি ব্যয় করবো? বলে দাওঃ যা কিছু তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়। এভাবে আল্লাহ‌ তোমাদের জন্য দ্ব্যর্থহীন সুস্পষ্ট বিধান বর্ণনা করেন, হয়তো তোমরা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানের জন্য চিন্তা করবে। জিজ্ঞেস করছেঃ এতিমদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে? বলে দাওঃ যে কর্মপদ্ধতি তাদের জন্য কল্যাণকর তাই অবলম্বন করা ভালো।২৩৬তোমরা যদি তোমাদের নিজেদের ও তাদের খরচপাতি ও থাকা-খাওয়া যৌথ ব্যবস্থাপনায় রাখো তাহলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। তারা তো তোমাদের ভাই। অনিষ্টকারী ও হীতকারী উভয়ের অবস্থা আল্লাহ‌ জানেন। আল্লাহ‌ চাইলে এ ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কঠোর ব্যবহার করতেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতা ও পরাক্রমের অধিকারী হবার সাথে সাথে জ্ঞান ও হিকমতের অধিকারী।