বাংলা খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলা খবর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৬

স্প্রে করলেই হাতের মুঠোয় প্রেমিকা!

বশীকরণ বা জাদুটোনা নয়। এমনকী, মধ্যযুগের ইউরোপের ‘লাভ-পোশন’ও নয়। এটি নেহাতই নিরীহ একটি নেজাল-স্প্রে। আর এর গন্ধেই কুপোকাত হয়ে যেতে পারেন বড় বড় সুন্দরী।

জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন এই বিশেষ নেজাল স্প্রে অক্সিটোসিন হরমোনের এক কৃত্রিম রূপান্তর। এই হরমোনকে সাধারণত ‘লাভ হরমোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। মানুযের প্রেমে পড়ার প্রবৃত্তির মূলে নাকি কাজ করে থাকে এই হরমোনটিই।

এই নেজাল-স্প্রে পরীক্ষামূলকভাবে ৪৬ জন নারীর ওপরে প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, তাঁরা তাঁদের পুরুষ সঙ্গীর প্রতি তীব্র প্রেম অনুভব করেছেন। এই নারীদের বয়স ২০-র কোঠায়।

কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। যে সব নারী জন্মনিয়ন্ত্রক পিল ব্যবহার করেন, তাঁদের ওপরে কোনও প্রভাবই ফেলেনি এই স্প্রে। অতএব, সাধু সাবধান!

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৬

সাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার তালিকা

কিছু পেশা আছে যা স্বাস্থ্যহানিকর। চাহিদাসম্পন্ন কিছু পেশা রয়েছে এ তালিকায়। এসব কাজের আড়ালে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার ডেটাবেজ এমন অস্বাস্থকর পেশার তালিকা তৈরি করেছে। কি কি ক্ষতি হচ্ছে এবং এর মাত্রা অনুযায়ী পেশাগুলোর স্কোর করা হয়েছে। যে পেশা যত ক্ষতিকর, শূন্য থেকে ১০০ পয়েন্টের স্কেলে তার স্কোর তত বেশি। এখানে জেনে নিন সবচেয়ে ক্ষতিকর ২৭টি পেশার কথা।

২৭-২৪. সমানভাবে ক্ষতিকর তিনটি পেশা একই অবস্থানে রয়েছে। এদের একটি রেডিওলজিস্ট, যারা এক্স-রে ও অন্যান্য রেডিওঅ্যাকটিভ যন্ত্রপাতি চালনা করেন। একই অবস্থানে আছেন মেটাল রিফাইনিং ফার্নেস অপারেটর। এরা ধাতব পদার্থ গলানো এবং ফার্নেসের কাজ করেন। তৃতীয়টি হলো এমবালমারস। এরা সৎকারের আগে মৃতদেহকে প্রস্তুত করে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫২.৮।

২৩. নিউক্লিয়ার মেডিসিন টেকনোলজিস্ট তেজস্ক্রিয় রশ্মির যন্ত্রপানি পরিচালনা করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.০।

২২. রেফ্রিজারেশন মেকানিস এবং ইন্সটলার যারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কমার্শিয়াল রেফ্রিজারেশন সিস্টেম তৈরি ও মেরামতের কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৩।

২১. করোনারি কেয়ার ইউনিটসহ জরুরি রোগীর সেবায় নিয়োজিত সেবিকা পেশা আছে এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৩.৫।

২০-১৭. চারটি পেশা রয়েছে একই অবস্থানে। একটি তেল, গ্যাস ও মাইনিং সাইটে কর্মরত সার্ভিস অপারেটর। দ্বিতীয় পেশা রাসায়নিক কারখানার অপারেটররা। দুটো ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৩.৭। তৃতীয়টি ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও প্যারামেডিকস যারা আঘাতপ্রাপ্ত বা অন্যান্য জরুরি অবস্থার রোগীর চিকিৎসা দেন। চতুর্থটি হলো খনিতে কাজ করা মেশিন অপারেটর। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এ দুটো পেশার স্কোর ৫৪.০।

১৬. রিফ্র্যাকটোরি ম্যাটেরিয়ালস রিপেয়ারস। এরা ফার্নেসেস, কিলনস, কুপোলাস, বয়লারস ইত্যাদি তৈরি ও মেরামত করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৪.৮।

১৫. অব্যবহৃদ মালামাল বা অন্যান্য উপকরণ যার সংগ্রহ করেন এবং এসব নিয়ে কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.০।

১৪. নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদনে কর্মরত প্রকৌশলীরা আছেন এ অবস্থানে। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে এর স্কোর ৫৫.২।

১৩-১২. একই অবস্থানে দুটো পেশা। একটি মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত ও মেরামতের কাজ। অন্যটি বিমানের পাইলট, কো-পাইলট এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার। উভয় ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৫.৭।

১১. তেল ও গ্যাস ফিল্ডের ডেরিক অপারেটর। যারা উত্তোলন যন্ত্র পরিচালনার কাজ করেন। অস্বাস্থ্যকর স্কেলে স্কোর ৫৬.০।

১০. এ অবস্থানে আছে সার্জিক্যাল অ্যান্ড মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট, টেকনলজিস্ট এবং টেকনিশিয়ানের কাজ। এরা অস্ত্রপচারে সাহায্য করেন এবং ল্যাবরেটরিতে নানা ধরনের টেস্ট করে থাকেন। স্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক ৩টি হুমকি হলো, রোগ এবং জীবাণুর মাঝে কাজ করা, দূষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা। ক্ষতির মাত্রায় এর স্কোর ৫৭.৩।

৯. স্টেশনারি পণ্য কারখানার প্রকৌশলী এবং বয়লার অপারেটররা আছেন নবম অবস্থানে। এরা স্টেশনারি ইঞ্জিন, বয়লার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ক্ষতিকর ৩টি স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো, দূষিত পরিবেশে অবস্থান করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা মারাত্মক পোড়া, কাটা বা অন্যান্য আঘাত। এর মোট স্কোর ৫৭.৭।

৮. পানি এবং দূষিত পানি পরিশোধনাগারে অপারেটররা ক্ষতিকর পেশার অষ্টমে আছেন। এ পেশার মানুষগুলো পানি পরিশোধনাগারের যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করেন। সেরা ৩টি হুমকি হলো রোগ সংক্রমণের পরিবেশে কাজ করা, বিপজ্জনক পরিবেশ এবং হালকা বা ভারী পোড়া, কাটা এবং ছড়ে যাওয়া। বিপজ্জনকমাত্রার মোট স্কোর ৫৮.২।

৭. হিস্টোটেকনলজিস্ট এবং এ কাজের প্রযুক্তিবিদরা আরো ক্ষতিকর পেশায় রয়েছেন। এরা বিপজ্জনক পরিবেশ, সংক্রমণের সম্ভাবনা এবং রোগ-জীবাণুর মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতিরমাত্রার স্কোর ৫৯.০।

৬. ইমিগ্রেশন ও কাস্টম অপারেটররা আছে ক্ষতিকর তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে। এরা মানুষ, পণ্যবাহী ট্রলি, পণ্য পরীক্ষা করাসহ নানা কাজ করে থাকেন। বিপজ্জনক কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংস্পর্শ এবং রেডিয়েশনের মাঝে কাজ করেন। মোট স্কোর ৫৯.৩।

৫. পডিয়াট্রিস্টরা আছে দারুণ স্বাস্থ্যঝুঁকির মাধ্যমে। এরা মানুষের পায় সংশ্লিষ্ট রোগ পরীক্ষা, সার্জারি ইত্যাদি কাজ করেন। এরা সংক্রমণের সম্ভাবনাময় পরিবেশ, রেডিয়েশন এবং দূষিত পরিবেশে থাকেন। এর মোট স্কোর ৬০.২।

৪. পশু চিকিৎসক এবং এ কাজে সংশ্লিষ্টরা আছেন দারুণ ঝুঁকিতে। এরা পশুর রোগ নির্ণয়, গবেষণা, চিকিৎসা এবং গবেষণাগারে কাজ করেন। যেকোনো রোগ-জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ পোড়া, কাটা, কামড় ইত্যাদি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬০.৩।

৩. অ্যানেসথেশিয়ার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক, নার্স এবং সহকারীদের কাজ আরো বেশি ঝুঁকির। এরা রোগ-জীবাণুপূর্ণ পরিবেশ, সংক্রমণ এবং রেডিয়েশনের মধ্যে কাজ করেন। ক্ষতির স্কোর ৬২.৩।

২. ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা আছেন সবচেয়ে ক্ষতিকর পেশার দুই নম্বরে। তারা বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা, সেবা ইত্যাদি দেখাশোনা করেন। ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ এবং পোড়া, কাটা ও মানসিক যন্ত্রণা দারুণ অস্বাস্থ্যকর। এ পেশার মোট স্কোর ৬২.৩। এ পেশার ক্ষতির মাত্রা অ্যানেসথেশিয়োলজিস্টদের মতো হলেও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অপেক্ষকৃত বেশি।

১. এ তালিকায় সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর পেশাখাত বলে চিহ্নিত হয়েছে দন্তচিকিৎসা। দাঁতের চিকিৎসক, সার্জন এবং অ্যাসিসটেন্টরা আছে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে। এরা সংক্রমণে ভরপুর পরিবেশ, রোগ ও জীবাণুর মধ্যে কাজ করা এবং বহু সময় বসে থেকে কাজ করেন। ক্ষতির মাত্রায় এ পেশার স্কোর ৬৫.৪। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৬

ভারতে পাচারকালে ৩১৮টি ছাগলের চামড়া জব্দ


বেনাপোল, যশোর: জেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ৩১৮টি ছাগলের চামড়া জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। তবে এসময় কোনো পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি তারা।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেনাপোলের দৌলতপুর মাঠ থেকে চামড়াগুলো জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানায়, পাচারকারীরা সীমান্ত পথে চামড়ার একটি চালান ভারতে পাচার করবে বলে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত থেকে সীমান্তে টহল জোরদার করে বিজিবি। সকালে কয়েক যুবককে মাথায় বস্তা নিয়ে ভারতের দিকে যেতে দেখে ধাওয়া করলে তারা ছয়টি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বস্তাগুলোর ভেতরে ৩১৮টি ছাগলের চামড়া পাওয়া যায়। যার দাম প্রায় চার লাখ টাকা।

২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দৌলতপুর ক্যাম্পের সুবেদার সামছুল হক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘জব্দকৃত চামড়াগুলো বেনাপোল কাস্টমস আটক শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।’

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৫

অতি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

অতি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত সিনেটর ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী র‍্যান্ড পল তাঁর বিবেচনায় ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ৩২টি দেশ থেকে উদ্বাস্তু গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে একটি প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপন করেছেন। এই খসড়া আইনে যে ৩২টি দেশকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সব মুসলিমপ্রধান দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘উদ্বাস্তু আগমন আইনের আওতায় জঙ্গিদের আগমন বন্ধ করো’-এ শিরোনামের খসড়া আইনটিতে উদ্বাস্তু বাছাইয়ের ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করে ছয়টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেমন- আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ইতিহাস, তাঁর কার্যাবলির ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি। এই ছয়টি শর্ত পুরোপুরি পালিত হয়েছে মর্মে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তর থেকে নিশ্চয়তা প্রদানের পরই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিনেটর পল দাবি করেছেন, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা এড়াতে সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্দেশ্যেই তিনি এই প্রস্তাব করেছেন।

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৫

রণবীরের সামনে আমি নির্দ্বিধায় নগ্ন হতে পারি : দীপিকা

রণবীরের সামনে আমি নির্দ্বিধায় নগ্ন হতে পারি : দীপিকা

কথাটি বলেছেন কাপুর নয়, সিং-কে নিয়ে। দুই রণবীরের প্রেয়সী। একজনের 'এক্স'। তাতে কী! যখন খোলা মনের খোলা জবাবের প্রসঙ্গ আসে, দীপিকা একেবারে অন্য মানুষ। যাকে বলে স্ট্রেট ফ্রম দ্য হার্ট। সম্প্রতি আসন্ন ছবি 'বাজিরাও মস্তানি' ছবির প্রোমোশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এমনই খোলা মনে উত্তর দিলেন সুন্দরী।
দীপিকা বলেন, 'রণবীর আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। এর সঙ্গে আমার বিশেষ কথা বলার প্রয়োজন হয় না। আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং লেভেল এতটাই ভালো, আমরা শুধু একে অপরের দিকে তাকাই আর বুঝে যাই আমরা কী চাই। সিনেমার ক্ষেত্রেও এটা খুব ভালো কাজ করে। ওর সামনে আমি নির্দ্বিধায় নগ্ন হতে পারি। আমার এতটাই বিশ্বাস আছে ওঁর ওপর। আমি জানি ও আমায় কোনও দিন আঘাত করবে না। এ জন্য আমি ওকে ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি।'
দিন কয়েক আগেও এমনভাবেই রণবীর কাপুরের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, 'আমি অনুমতি না দিলে ও বিয়েই করতে পারবে না।' বছর খানেক আগে একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন শো-তে এসে সদ্য ব্রেক আপ হওয়া রণবীর সম্পর্কে দীপিকার মন্তব্য ছিল চমকে দেওয়ার মতো। তিনি বলেন, 'ও (রণবীর কাপুর) তো কন্ডোমের বিজ্ঞাপন করতে পারে। ওগুলো ব্যবহার করতে খুব ভালোবাসে কিনা!'
তবে দুই রণবীরের মধ্যে তুলনা টানতে নারাজ তিনি। দীপিকার মতে দু' জনে দু' রকম। ফলে তুলনা টানা ভুল হবে। তবে কেমিস্ট্রি যে দু'জনের সঙ্গেই জমপেশ হয় সে নিয়ে তর্কের কোনও জায়গা নেই। 'রামলীলা' বা 'ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি'তে দুই রণবীরের বাহুলগ্না হয়ে দর্শকদের মনেই নয়, ব্লকবাস্টারেও জায়গা করে নিয়েছেন এ মুহুর্তে বলিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী।

বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৫

অবশেষে জানা গেলো বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধের কারন

অবশেষে জানা গেলো বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধের কারন। জনগনের নিরাপত্তা বা জঙ্গী দমন নয়, বরং এর আড়ালে ছিল বাংলাদেশের ইন্টারনেট লাইনের ওপর চাপ কমিয়ে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরাকে ১০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড ব্যান্ডউডথ হস্তান্তর। এ কাজটি করা হয়েছে হত ১ ডিসেম্বর, যা গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক বিতরনে গেছে।

১০ জিবিপিএস খুবই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইন। ফেসবুক চালু অবস্থায় বাংলাদেশের কোটি কোটি গ্রাহকের স্বাভাবিক লাইন চালু রেখে এই পরিমান ব্যান্ডউডথ হস্তান্তর করতে গেলে গতি কমে গিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারত, যুব সমাজ ক্ষেপে উঠত, যা শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষেই যেতো। এসকল আশঙ্কায় বুদ্ধি করে জঙ্গী দমনের নামে বাংলাদেশের প্রযুক্তি মন্ত্রীরা আগে থেকেই বন্ধ করে দেয় সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুক! যার ফলে কোটি কোটি বাংলাদেশী অনলাইন থেকে বিযুক্ত হয়ে পড়ে। মুলত, ভারতকে নানাবিধ আইটি সুবিধা তথা বিনাশুল্কে মোবাইল ফোন ব্যবসা, এদেশের কল ও ডাটা ভারতে মনিটর নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য গত ৬ বছর ধরে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরী কমিশনে একজন হিন্দু চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসকে বসানো হয়। তার অবসরের পরে ভারতীয় লবি ও শেখ হাসিনার পুত্রের সুপারিশে সেখানে বসানো হয়েছে ওয়াশিংটন মেট্র্ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শাহজাহান মাহমুদকে। এর আগেই পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের আইটি খাতের উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) উদ্যোক্তা বিক্রম দাশ গুপ্তকে। তিনি বাংলাদেশের আইটি ও আইটি সক্ষম সেবা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) কৌশলগত নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করছেন।

একদিকে বাংলাদেশে যখন ফেসবুক ভাইবারের জন্য চলছে হাহাকার, ঠিক তখন অপর পাড়ে ত্রিপুরায় কল্পনার হাইস্পীড লাইন পেয়ে চলছে মহাউৎসব। যেনো তারা জয় করেছে বাংলাদেশ। এভাবেই বার বার হারছে বাংলাদেশ, আর লুটে নিচ্ছে হিন্দুস্তান।

........হয়ত হাসিনার পতনের আগ পর্যন্ত এক এক করে এভাবেই ভারত নিয়ে যাবে তাদের দরকারী সব, যা পারে। শেষে কখনও যদি বাংলার প্রকৃত মুক্তি আসে, স্বাধীনতা পায়, তবে এইসব পরাধীনতার শোধ তুলে নেয়।

বড় ভাই বিজিবি মহাপরিচালক ছোট ভাই ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী


বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমদের ছোট ভাই ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তোফায়েল আহমেদ যোসেফের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে গতকাল বুধবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে নামিয়ে এনেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যার অর্থ শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন সন্ত্রাসী যোসেফ।
প্রায় ২০ বছর ধরে বন্দী থাকায় এরই মধ্যে কারাদণ্ড ভোগও সম্পন্ন হওয়ায় যোসেফের মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে বুধবার জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
কারাগারে পরিবর্তে যোসেফ দীর্ঘ দিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে আছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এখান থেকেই তিনি মুক্তি পাবেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এই মুক্তি প্রক্রিয়াকে বিডিআর ধ্বংসের পর ভারতপন্থী অফিসারদের প্রাধান্য দিয়ে গঠিত বিজিবিকে শেখ হাসিনার মর্জি মত পরিচালনা করার জন্য একটি 'ছোট্ট পুরস্কার' বলে মন্তব্য করেছেন।
যোসেফ, আনিস এবং হারিস- এই তিন কুখ্যাত সন্ত্রাসীর বড় ভাই মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ এই বিজিবিকে দিয়ে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সারাদেশে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা, ক্রস ফায়ারে দেয়া ও গুম করার ক্ষেত্রে মুল ভূমিকায় এই মেজর জেনারেল আজিজই মুল বলে অনেকেই মনে করেন। সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বিজিবি এখন সীমান্ত পাহারার পরিবর্তে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের দলনেই ব্যস্ত ।
যোসেফের রায়ের পর ফেসবুকে একজন লিখেছেন, "এটা তো আজিজের জন্য হাসিনার ছোট্ট একটি পুরস্কার! তার জন্য ভবিষ্যতে আরো বহু বড় বড় পুরস্কার অপেক্ষা করছে। তার কাজটা হচ্ছে শুধু ভারতের ইশারা অনুযায়ী এবং শেখ হাসিনার ইচ্ছা মত কাজ করে যাওয়া।"
মোহাম্মদ সাকের নামে একজন ফেসবুকার লিখেছেন, "কি আর বলবো আওয়ামী লীগ ১০০ টা খুন করলে ও কোন সমস্যা নাই। এই হলো গনতন্ত্র। যা করুক দেখবেন কোন এক দিন আওয়ামী লীগের কবর হইয়া যাবে বেশি বারাবাড়ি ভাল না।"
অন্য একজন লিখেছেন, "আওয়ামী অনুগত প্রধান বিচারপতি যতদিন থাকবেন ততদিন পযন্ত কোন আওয়ামী সন্ত্রাসীর ফাঁসি হবেনা। এই গ্যারান্টি নিয়ে তাকে এই পদে রাখা হয়েছে। তবে বিএনপি-জামাত হলে জোর করে ফাঁসি দেয়া ওপরের আদেশ।"
আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন,
মুজিব কোর্টে আছেন সুরেন্দ্র ভাই
জোসেফ তোমার ভয় নাই,
আজিজ ভাই বন্দুক ছাড়ে নাই
আরেকজন লিখেছেন, "সবাই ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে আওয়ামি নামক নতুন ধর্মে যোগ দিন, এমন সুবিচার পেয়ে যাবেন।"

বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৫

যে প্রেমের শুরুই হয় বিছানায়, তা কি টিকে!

সাধারণত প্রথমে প্রেম, তার পর বিছানার তত্ত্বেই বেশিরভাগ গল্প চলে এসেছে এতকাল। কেমন হয়, যদি গল্প শুরু হয় বিছানায়? কেমন হবে তা তো আপাতত অজানা। কিন্তু সেটাই জানাতে আগামী বছর জানুয়ারিতে মুক্তি পাচ্ছে 'লাভশুদা'। সম্প্রতি ছবির অফিশিয়াল টিজার মুক্তি পেয়েছে।
সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন গিরিশ কুমার এবং নবনীত ধিলোন। যদি নামগুলি একটু অচেনা লাগে তাহলে একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে। ২০১৩-য় প্রভু দেবা পরিচালিত একটি সিনেমা মুক্তি পায় 'রামাইয়া বস্তাবইয়া'। সেখানেই ডেবিউ করেন গিরিশ। বাবা কুমার তওরানি এই ছবির প্রযোজকও ছিলেন। নায়িকার চরিত্রে ছিলেন শ্রুতি হাসান। তবে সিনেমাটি একেবারেই চলেনি। ছবির জন্য দু'-একটি নমিনেশন পেয়েছিলেন গিরিশ। কিন্তু ওই পর্যন্তই।
প্রায় দেড় বছর পর ফের বড় পর্দায় ফিরছেন গিরিশ। টিপস-এর ব্যানারেই পরবর্তী ছবিতে গিরিশকে সম্পূর্ণ অন্য লুকে দেখা যাচ্ছে। ক্লিন শেভড, স্ট্রেট ছোট করে ছাঁটা চুল। আগের ছবির সঙ্গে কোনও মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে তাঁর বিপরীতে বলিউডে পা রাখছেন নভনীত। ২০১৩-য় মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। সুস্মিতা, ঐশ্বরিয়া, প্রিয়াঙ্কাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে বলিউডে পা রাখছেন নভনীত। যদিও টিজারটি অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ টিজারে BED কথাটি রয়েছে। ছবি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বৈভব মিশ্র।

মাদারীপুরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত

আজ বুধবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) মাদারীপুর জেলা শাখার আয়োজনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে এদিন বিকেল ৩টায় স্বাধীণতা অঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপরে এম এম হাফিজ মেমোরিয়াল পাবলিক লাইব্রেরীতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তৃতা করেন সরকারী নাজিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ হিতেন চন্দ্র মন্ডল, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হাসান আলী, মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ।

ধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তালতলায় বাসায় আটকে রেখে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় গৃহকর্মীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।


গৃহকর্মীর পরিবার জানায়, ওই কিশোরীর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক শাহজালাল তাঁর ঢাকার বাসায় ওই কিশোরীকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়ে আসেন। যুবলীগ নেতার স্ত্রী চাকরি করেন বলে বেশ কিছুটা সময় বাইরে থাকতেন। এ সুযোগে শাহজালাল তাকে বাসায় জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে গত শনিবার শাহজালাল তাকে বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে চাঁদপুরে নিয়ে গিয়ে এক স্থানে ফেলে পালিয়ে যান। পরে ওই কিশোরী লক্ষ্মীপুরে বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের এ ঘটনা জানায়।

ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, এ ব্যাপারে রায়পুর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। থানা থেকে বলা হয়, ঘটনাস্থল ঢাকা হওয়ায় সেখানকার সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে হবে। এরপর গৃহকর্মীকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের অনুমতি নেই বলে গৃহকর্মীকে ভর্তি করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও পরবর্তী ঘটনা জানিয়ে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। রায়পুর থানার পক্ষ থেকে বিষয়টি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় জানানো হয়। রায়পুর থানার তত্ত্বাবধানে গৃহকর্মীর পরিবারকে শেরেবাংলা নগর থানায় পাঠানো হয়। আজ সকালে গৃহকর্মীর বাবা এ থানায় শাহজালালকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি জি জি বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আজ সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে যোগাযোগ করা হলে যুবলীগ নেতা শাহজালালের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গত সোমবার তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছিলেন, রাজনীতি করার কারণে একটি চক্র তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ওই কিশোরী আজ ঢাকা মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কিশোরীকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। আগামীকাল বয়স নির্ধারণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে আবার ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হবে।

সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য পায় না দুদক


পাঁচ বছরে দুদকের কৌশলী পদক্ষেপে সরকারি দলের দুই শতাধিক রাজনীতিবিদ ও সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের সবার বিরুদ্ধে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলা থেকে রেহাই পাননি।
ওই সময়ে আরও কয়েক হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুদকে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়লেও অনুসন্ধান পর্যায়ে নথিভুক্ত (মামলার জন্য উপযুক্ত নয়) এবং মামলা করার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে অব্যাহতিপত্র দেওয়া হয়েছে। কমিশনের ভাষায় ‘অভিযোগের আমলযোগ্য তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কারণে’ তাঁরা অব্যাহতি পেয়েছেন।
তবে দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে দুদক কাউকেই ছাড় দেয় না। কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করে না। অনুসন্ধানের সময় আদালতে উপস্থাপন করার মতো তথ্য না পেলে অভিযোগটি নথিভুক্ত করে কমিশন। আর তদন্তে কোনো অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
দুদক সূত্র জানায়, ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের জন্য ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার কয়েকবারে ৩৩৭ জনের তালিকা পাঠায় দুদকে। তাঁদের সবাই সরকারদলীয় নেতা কিংবা সরকার-সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু দুদক আইনে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক বিবেচনা করে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় ভিন্ন কৌশলে তাঁদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগের ‘সত্যতা’ না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া, ‘মানবিক বিবেচনা’য় আপিল না করা এবং আপিলের পর উচ্চ আদালতে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের আবেদন করা—এ তিন পদ্ধতিতে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।
কিন্তু গত ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ হাজি সেলিমের দুর্নীতির মামলা শেষ মুহূর্তে না চালানোর জন্য দুদকের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। প্রধান বিচারপতি ওই আদেশে বলেন, শুনানিকালে এভাবে খারিজের আবেদন করা বা মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে আদালত বিভ্রান্ত হন। হাজি সেলিমের এই মামলায় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৩ বছরের দণ্ড বাতিল হয়।
দুদকের প্যানেল আইনজীবী খুরশিদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, যে আইনি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা খুবই স্পষ্ট। তাই একই ধরনের কোনো মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে আপিল বিভাগ নিরুৎসাহিত করেছেন।
সরকারি দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এভাবে একের পর এক ছাড় পেয়ে গেলেও বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্তে খুবই কঠোর অবস্থানে দুদক। এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদকে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ’৯৬ সালের একটি নোটিশের ধারাবাহিকতায় সম্পদ বিবরণী দিতে হয়েছে দুদকে। গত বছর হিসাব বিবরণী দিতে দুদকে এসে অলি আহমদ সাংবাদিকদের কাছে বলেন, মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করার খেসারত হিসেবে তাঁকে দুদকে আসতে হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও তাঁর প্রবাসী ভাই মঞ্জুর আহমদ, বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার, এম মোরশেদ খান, আলী আসগার লবি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা, মোসাদ্দেক আলী ফালু, এহছানুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুদকের মামলায় লড়ছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা চলছে। তবে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির একটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় দুদক। আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা পরিচালনার সময় সিঙ্গাপুর থেকে পাচার করা অর্থ ফেরত এনেছে দুদক।
দুদকে আসা অভিযোগ ও অনুসন্ধানের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন লাখের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ২২ হাজার অভিযোগের অনুসন্ধান হয়। বাকি অভিযোগগুলো দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় অনুসন্ধানের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। ২২ হাজার অভিযোগ অনুসন্ধানের পর প্রায় চার হাজার মামলা করা হয়। অভিযোগের ‘সত্যতা’ না পাওয়ায় নথিভুক্ত করা হয় প্রায় ১৮ হাজার অভিযোগ। এর মাধ্যমে ১৮ হাজার ৩৯ জন দুদকের অব্যাহতিপত্র পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ী ৬৯৭ জন, বিভিন্নভাবে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ১৫ হাজার ১১ জন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন অন্তত তিন হাজার।
অন্যদিকে এ সময়ে করা মামলাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১৩১টির অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ২ হাজার ৮৬৭টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ৩ হাজার ২২ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে সরকারদলীয় নেতা-কর্মী ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৮৬১ জন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাপক হারে দায়মুক্তির কারণে এ প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে দুদক বাস্তবেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে কি না।
অভিযোগ থেকে দায়মুক্তির ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা গেছে, অনেক ঘটনায় দৃশ্যমান প্রমাণ থাকলেও দুদকের কর্মকর্তারা এর কোনো প্রমাণ পাননি। নির্বাচন কমিশনে নিজেদের দেওয়া হলফনামায় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও ‘ভুল হয়েছে’ অজুহাত গ্রহণ করে অনেককে দায়মুক্তি দিয়েছে দুদক। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেশ জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আলোচিত অনেক ব্যক্তিত্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন বলে কথিত রয়েছে।
নবম জাতীয় সংসদের হলফনামা নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষে হলফনামায় তথ্য দিতে ‘ভুল হয়েছে’ যুক্তি গ্রহণ করে আ ফ ম রুহুল হক ও আসলামুল হককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় সংস্থাটি। সরকারদলীয় সাংসদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে ২১৩ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামলার সুপারিশ করলেও তাঁকে অব্যাহতি দেয় কমিশন। তবে সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, সাংসদ আবদুর রহমান বদি, বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও সাতক্ষীরার সাবেক সাংসদ আবদুল জব্বারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বন্ধুদের সম্মাননা দেওয়ার সময় ক্রেস্টের সোনা জালিয়াতির অনুসন্ধানের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি নেই।
রেলওয়ের দুর্নীতির কালো বিড়াল ধরার ঘোষণা দিলেও দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার অভিযোগ ওঠে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে। কিন্তু ঘুষের তথ্য ফাঁসকারী ইউসুফ আলী মৃধার গাড়িচালক মো. আলী আযম প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে না আসায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর রেলওয়ের নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে ১৩টি মামলা করে দুদক। ওই সব মামলার প্রধান আসামি ইউসুফ আলী মৃধাকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ছয়টি মামলার অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বহুল আলোচিত হল-মার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীর সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠলেও মামলায় তাঁকে আসামি করেনি দুদক। দায়মুক্তি দেয় অনুসন্ধান পর্যায়েই। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকেও মামলায় আনা হয়নি। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও দুদকের করা ৫৬টি মামলার একটিতেও আবদুল হাই বাচ্চু বা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি।
পেট্রোবাংলায় নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগে সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুরের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আগের মেয়াদে ৪০৩টি হজ এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার ঘটনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান চালায়নি দুদক। অথচ প্রতিমন্ত্রীর এপিএস সৌমেন্দ্র লাল চন্দর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে দায়মুক্তি পেয়েছেন ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ হাজি সেলিম, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান, আনন্দ শিপইয়ার্ডের মালিক আবদুল্লাহিল বারী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হুদা, ইউসিবিএলের এমডি মুহাম্মদ আলী, সোনালী ব্যাংকের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক হাসান খসরু, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছুর রহমান, পুলিশের ডিআইজি (এসবি) মো. রফিকুল ইসলাম, এসপি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৫

BD News

বিডি নিউজ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আলোকিত নাম, বাংলাদেশের জাতিয় মাধ্যম গুলি জখন সৈরাচার শাসক এর দখলে, তখনি সত্যর বানি নিয়ে হাজির বিডি নিউজ, এটি সুদখ্য  সম্পাদক দারা পরিচালিত, সারা বাংলাদেশে লুকিয়ে থাকা সব খবর সাথে সাথে প্রচার করা হয়, দেশের বাহিরেও রয়েছে অসংখ্য সাংবাদিক, তারা প্রতি মুহূর্তেই আপডেট দিয়ে থাকেন প্রবাসের খবর, বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ার শুধুমাত্র বিডি নিউজেই রয়েছে ২৪ ঘন্টা অনলাইন,
আপনার যেকোনো খবর আমাদের পেজে প্রচার করতে যোগাযোগ করুন Facebook page

রাজস্ব আদায় ১৪% বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা

রাজস্ব আদায় ১৪% বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ৮ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৪ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে, পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ রাজস্ব ১৪ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। অবশ্য এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয় নি। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৮ হাজার ৮ কোটি টাকা বা ১৩ শতাংশ। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা।
সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত নভেম্বরে রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা যা গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের নভেম্বরে আদায় হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছর ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে এনবিআরকে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে বছর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সমপ্রতি এক প্রাক্কলনে জানিয়েছে, অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
অবশ্য এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান মনে করেন, বছর শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে রাজস্ব আদায়ে গতি বেড়েছে। গেল নভেম্বরের রাজস্ব আদায়ে ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এর বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা ও বিপিসি’র কাছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মামলায় আটকে থাকা ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব উদ্ধারেও তত্পরতা শুরু হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড  বাড়ার ফলে আমদানি রপ্তানিতে গতি ফেরা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে অগ্রগতির ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শুরুতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও কাঙ্খিত পরিমানে আদায় না হওয়ায় পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। বছর শেষে অবশ্য ওই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা হলেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশের কিছু বেশি। চলতি বছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ শতাংশ। এ লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, স্বাধীনতার পর কখনোই ২৯ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় বাড়েনি। একবারই ২২ শতাংশ হয়েছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ত্তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, আমদানি-রপ্তানিতেও আহামরি গতি নেই। বিনিয়োগেও গতি মন্থর। ফলে সার্বিক বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হওয়ার কথা নয়।